নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ থাকবে দেশের সব কোচিং সেন্টার। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পরীক্ষায় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শেষ হবে ১৪ মে। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত এসএসসি পরীক্ষার ৭ দিন আগে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই নির্দেশনা বেশিরভাগ কোচিং সেন্টারই মানেনি। এবার নির্দেশনা মানার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে কি না জানতে চাইলে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের কোচিং সেন্টারেরই আইনগত ভিত্তি নেই। সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে পারে।
এবারের এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় এবার ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। যা গতবারের চেয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন বেশি।
গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসিতে প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার দিন সকালে ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া এসএসসির মতো এইচএসসিতেও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষার হলে বসতে হবে। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস বহনে নিষেধাজ্ঞাও আগের মতোই বহাল থাকছে।
দৈনিকদেশজনতা/ আই সি
Daily Deshjanata দেশ ও জনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

