নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হবে সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি ‘শান্তি ও উন্নয়নে পারমাণবিক শক্তি’ শীর্ষক বক্তৃতা রাখবেন। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জনাব মো. আবদুল হামিদ। বিশেষ সমাবর্তন উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৩টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সমাবর্তন রিহার্সেল (মহড়া) অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, মূলত বিশেষ সমাবর্তনের রীতি শুরু হয় স্বাধীনতার পরেই। ১৯৭৪ সালে বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে ৮ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ডিগ্রি দেয়া হয়। এর মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বোস (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (মরণোত্তর), অধ্যাপক কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক মুহাম্মদ কুদরাত-ই- খুদা, অধ্যাপক হিরেন্দ্রলাল দেব, সাহিত্যিক আবুল ফজল ও ওস্তাদ আলী আকবর খান। তারপর ১৯৯৩ সালে এসে অধ্যাপক আবদুস সালামকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ প্রদান করা হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ফেডেরিকো মেয়রকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’, ২০০৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির বিন মুহাম্মদকে ‘ডক্টর অব লজ’, ২০১০ সালে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি ড. আবদুল্লাহ গুলকে ‘ডক্টর অব লজ’, ২০১১ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনকে ‘ডক্টর অব লজ’ ও ২০১২ সালে ইউনেস্কোর মহাপরিচালককে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
ইউকিয়া আমানোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় : আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো ১৯৪৭ সালের ৯ মে জাপানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন জাপানি কূটনীতিক। ২০০৯ সালে তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৫৭ সালে আইএইএ প্রতিষ্ঠিত হয়। আইএইএ হচ্ছে ভিয়েনাভিত্তিক একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা। ২০০৯ সালে আইএইএ’র মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত ইউকিয়া আমানো সংস্থাটির জাপানের আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থার বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরমাণু শক্তি ইস্যু তথা নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্রের বিস্তার রোধবিষয়ক কূটনীতিতে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও বিজ্ঞান বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
এর আগে তিনি মিসাইলবিষয়ক জাতিসংঘ প্যানেল এবং নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্রের বিস্তার রোধ শিক্ষা সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ গ্রুপে সরকারি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের স্নাতক আমানো ১৯৭২ সালের এপ্রিলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লাউস, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মস্থলে তার দায়িত্ব পালন শুরু হয়।
দৈনিক দেশজনতা/এন এইচ
Daily Deshjanata দেশ ও জনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

