২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৫৫

অনলাইনে চাকরির বিজ্ঞাপণ দিয়ে প্রতারণায় কথিত সাংবাদিক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও প্রতারণা করে আসছিলো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-মোঃ হেমায়েত খান ওরফে হায়দার (৪১), মোঃ শাহীন আলম (৪৫) ও জামাল উদ্দিন (৩৫)।

উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী হোসেন খান বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শেষে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত থেকে আন্তর্জাতিক যুব সংস্থার বিভিন্ন পদে নিয়োগের সিইও’র স্বাক্ষর করা ৩৫টি নিয়োগপত্র, কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্পের সিলেকশন ফরম ৫০টি, হিউম্যান রিসার্চ প্রাইমারি হেল্থ কেয়ার সেন্টারের সিলেকশন ফরম ৮৫টি, আন্তর্জাতিক যুব সংস্থার বিভিন্ন লোকের ছবিসহ স্বাক্ষরিত ৩৫টি আইডি কার্ড ও খালি আইডি কার্ড ৬০টি, ডাক বিভাগের রেজিস্ট্রি রশিদ ৩০টি ও ঠিকানা লেখা হলুদ খাম ২০টি, আন্তর্জাতিক যুব সংস্থার স্বাস্থ্য কার্ড ১১০টি, বাংলাদেশ পপুলেশন এন্ড হেল্থ কেয়ার প্রোগ্রাম (বিপিএইচসিপি) ফরম ২০০টি, শ্যামল ছায়া এনজিও এর নামীয় ৪টি ফটোকপি বুকলেট, ১টি আইডি কার্ড যাতে আজকের আলোকিত সকাল ও মোঃ হেমায়েত খান হায়দার লেখা আছে, নগদ সর্বমোট ১০ হাজার ৪ শত টাকা এবং ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে প্রতারণা করা হয়

জাহানারা আক্তার এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার সিটি সেন্টারে একটি আইসিটি ফার্মে কাজ করেন। তিনি বিডিজবস ডটকম অনলাইনের মাধ্যমে জানতে পারেন আন্তর্জাতিক যুব সংস্থার সুপারভাইজার ও কেন্দ্র ভিজিটর পদে লোক নিয়োগ করা হবে। সেই মোতাবেক তিনি অনলাইনে ফরম পূরণ করেন। ২০ অক্টোবর তার মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে যাতে বাংলাদেশ পপুলেশন এন্ড হেল্থ কেয়ার প্রোগ্রামে ভাইভা বোর্ডে ২৪ অক্টোবর হাজির থাকার জন্য বলা হয়। তাকে মোবাইল ফোনেও বলা হয় ভাইভা দেওয়ার জন্য উত্তরা ৯নং সেক্টরের ৭/বি রোডের ৪/বি বাসার ৩য় তলায় আসার জন্য। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মঙ্গলবার সকাল ৯ টার সময় ভাইভা দেওয়ার জন্য প্রদত্ত ঠিকানার অফিসে যান।

অভিযুক্ত শাহিন আলম তার ভাইভা পরীক্ষা নেন এবং তিনি সুপার ভাইজার পদে সিলেকশন হয়েছেন বলে জানান। তারপর তাকে ১৫০০ টাকা দিতে বলা হয়। তিনি তার কাছে থাকা ৫০০ টাকা তাদেরকে দেন। বাকি টাকা তাদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে পাঠাতে বলা হয়।

এসময় উক্ত অফিসের কার্যক্রম দেখে জাহানারা আক্তারের মনে সন্দেহ হয়। অফিসে তখন আরো ১০/১২ জন ভাইভার জন্য অপেক্ষা করছিল। তাই তিনি প্রতিবাদ না করে উত্তরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার তাপস কুমার দাসের নিকট চলে যান। তার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার টহল পুলিশের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিযুক্ত হেমায়েত খান সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পুলিশকে হুমকি দেন। অফিসের কাগজপত্র দেখতে চাইলে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। সেসময় সর্বশেষ ভাইভার জন্য আসা মাহবুবা জান্নাত মাহী ও নাজমুন নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা জানায় তাদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা গ্রহণ করেছে প্রতারকরা। ঘটনাস্থল থেকে প্রতারকচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- গ্রেফতাররা ও তাদের অন্যান্য পলাতক সহযোগিরা মিলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপণ দিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করত।

দৈনিকদেশজনতা/ আই সি

প্রকাশ :অক্টোবর ২৫, ২০১৭ ২:৪২ অপরাহ্ণ