১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৪৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন : আটঘাট বেঁধে নামবে আ.লীগ, বিএনপিও প্রস্তুত

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিন সিটিতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এই তিন সিটি নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আর দলটির অংশগ্রহণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। এই তিন সিটিরই জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। আইনানুসারে ঢাকার দুই সিটিতে ভোটের আয়োজন করতে হবে এ বছরের নভেম্বর থেকে আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে। আর চট্টগ্রাম সিটিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ভোট হতে হবে।

এই তিন সিটি নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সামগ্রীর পরিমাণ নির্ধারণসহ সীমানা জটিলতা সম্পর্কে তথ্য নেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কাজে ইসি এরই মধ্যে হাত দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে থেকে যদি প্রস্তুতি না নেওয়া যায় তাহলে সিডিউল ঘোষণার পর যে সময় থাকে তার মধ্যে এগুলো সমাধান করা সম্ভব হয় না। এসব প্রস্তুতি শেষ করেই ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।’

রফিকুল আরও বলেন, ‘১৮০ দিনের মধ্যে যাতে নির্বাচন করা যায় তার জন্য কমিশন বসে একটা সিদ্ধান্ত নেবে। তারিখ নির্ধারণ করে আমরা নির্বাচন করতে পারি। ৩ সিটিতেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ যাবত অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের প্রায় সবগুলো নির্বাচনই বর্জন করেছে বিএনপি। তবে ৩ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।

সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির ভাবনা জানতে চাইলে দলটির নেতারা বলছেন, ইসির প্রস্তুতির সঙ্গে নির্বাচনের পরিবেশও যাতে সুন্দর থাকে সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। আর নির্বাচন যখনই আয়োজন হোক প্রস্তুতি নিয়ে তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাদের করা হচ্ছে সেটাও চিন্তায় রাখছে বিএনপি। একাধিক নেতা আগ্রহী হলেও যাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠের রাজনীতিতে ভূমিকা আছে এমন প্রার্থীদের বেছে নেয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, ‘আমরা সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইসি তো আস্থা তৈরি করতে পারে না। এটাই বড় সমস্যা। এর আগে ভোটের দিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখান থেকে উত্তরণের উপায়ও প্রস্তুতির সঙ্গে ঠিক করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার। এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে। অনেকেই নির্বাচন করতে আগ্রহী আছে। তবে দল কাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে আরও সময় লাগবে।’

আর যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল  বলেন, ‘সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

‘আমাদের আশঙ্কার জায়গা হলো নির্বাচনের দিনক্ষণ যত কাছে আসবে তখন কী অবস্থা হয় সেটা। আশা করি, প্রস্তুতি যতই ভালো হোক, শেষ পর্যন্ত পরিবেশ যেন ভোটের পক্ষে থাকে।’

বিএনপির অংশগ্রহণকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের আটঘাট বেঁধে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনে জিততে হবে। গতবার প্রতিপক্ষ ছিল না বলে আপনারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ভেবেছেন জেতাটা সহজ হয়ে গেছে। এবারকার নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে, আমাদের প্রতিপক্ষরাও আটঘাট বেঁধে নামবে।’

প্রকাশ :নভেম্বর ৩, ২০১৯ ১২:৩২ অপরাহ্ণ