১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৩২

যে গোত্রে নারীই প্রধান

  আন্তর্জাতিক-নারী-দিবস  : বিশ্বের অনেক দেশেই এখন নারী নের্তৃত্ব চলছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও তাদের দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক গোত্র রয়েছে, যেখানে নারীরাই সর্বেসর্বা। এমন কয়েকটি গোত্র নিয়েই এই প্রতিবেদন।

মোসুও

চীনের ইউনান প্রদেশে হিমালয়ের পাদদেশে বসবাসকারী মোসুও গোষ্ঠীকে বলা হয় ‘নারীদের রাজ্য’। এটি পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় মাতৃপ্রধান ও নারী শাসিত সমাজগুলোর মধ্যে একটি। মোসুও জনগোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি। কয়েকশ বছর ধরে তারা তিব্বত ও ইউনান প্রদেশের সীমান্তবর্তী লগু হ্রদের তীরে বসবাস করে আসছে। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী এই গোত্রের প্রতিটি পরিবারের প্রধান হলেন সেই পরিবারের নারী। পরিবারের সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নারীরা নেন এবং সন্তানেরা মায়ের বংশের অধিকারী হয়ে থাকেন।

মিনাঙ্গকাবাউ

এই গোত্রের বসবাস দক্ষিণ সুমাত্রা দ্বীপে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাতৃপ্রধান গোত্র। এই গোত্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি। মিনাঙ্গকাবাউ গোত্রে নারীরা পরিবারের প্রধান হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে পুরুষেরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেখেন। ইসলামী অনুশাসনের অনুসারী এই গোত্রের সন্তানেরা মায়ের পরিচয়ে বড় হয়। মেয়েদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি করেন মা। আর বাবা ছেলেদের মধ্যে অর্থ বন্টন করেন।

আকান

ঘানা ও আইভরিকোস্টের বিভিন্ন অঞ্চলে আকান গোত্রের বসবাস। এই গোত্রের মানুষেরা আটটি উপগোত্রে বিভক্ত। জন্মসূত্রে গোত্রের সন্তানেরা মায়ের কাছে বড় হয় এবং বিয়ের পরেও তারা মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। সন্তানেরা জমি ও অর্থ মায়ের কাছে থেকে পেয়ে থাকে। এই বিষয়ে পুরুষের কোনো কর্তৃত্ব থাকে না।

বিরিবিরি

কোস্টারিকার লিমন প্রদেশে বিরিবিরি গোত্রের বসবাস। এই গোত্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বিরিবিরিদের মধ্যে ভূ সম্পত্তি ও কোকোয়া বাগানকে অনেক মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দু’টির ওপর নারীদের অধিকার। সম্পত্তি সংরক্ষণ ও ভাগাভাগিতে পুরুষের কোনো অধিকার নেই। নারীরা তাদের কন্যা বা অন্যকোনো নারী আত্মীদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিতে পারে। তবে বর্তমানে বিরিবিরি গোত্রের নারী ও পুরুষদের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।
গারো

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকার গাজীপুর এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় গারো আদিবাসীদের বসবাস। এই গোত্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি। গারোদের আদি ধর্ম ছিল সাংসারেক বা প্রকৃতি পূজা। তবে বর্তমানে প্রায় ৯৮ ভাগই খ্রিষ্টান। গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ সম্পত্তির মালিক উত্তরাধিকার সূত্রে মেয়ে সন্তানরাই পায়। জন্মসূত্রে গারো সন্তানেরা মায়ের পরিচয় গ্রহণ করে।
নাগোভিসি

নিউগিনির দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে নাগোভিসি গোত্রের বাস। মাতৃতান্ত্রিক এই গোত্রের কাছে শস্যক্ষেত বা বাগান অনেক মূল্যবান। এই বাগানের ওপর নারীদের একক অধিকার থাকে। নারীরা উত্তরাধিকার সূত্রে এই বাগান মেয়ে সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। নাগোভিসি গোত্রের মধ্যে এক অদ্ভুত বিবাহ প্রথা চালু রয়েছে। তারা প্রথাগত বিয়েতে বিশ্বাস করে না। নারী যদি কোনো পুরুষকে তার বাগান পরিচর্যায় আহ্বান জানায়, তবে তিনি ওই পুরুষের সঙ্গে একঘরে থাকতে রাজি আছেন বলে ধরে নেয়া হয়। আবার পুরুষ যদি নারীর বাগান থেকে কোনো কিছু খেতে রাজি না থাকে তাহলে মনে করতে হবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে।

সিরার

সেনেগালের পশ্চিম অংশে এই উপজাতি গোত্রের বাস। দেশটির মোট জনসংখ্যার শতকরা পনেরো ভাগ এই গোত্র। সেনেগাল নদীর উপত্যকায় প্রায় এক হাজার বছর ধরে সিরার গোত্রের বসবাস। মাতৃতান্ত্রিক এই গোত্রের অর্থ ও সম্পত্তির মালিক উত্তরাধিকার সূত্রে নারীরা পেয়ে থাকে। এই গোত্রের অধিকাংশ সদস্য ইসলাম ধর্মের অনুসারী।

প্রকাশ :মার্চ ৮, ২০২০ ৪:০৫ অপরাহ্ণ