১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:০৮

এইডস আক্রান্ত মায়েরা সুস্থ শিশু জন্ম দিচ্ছেন

মধ্যপ্রাচ্য ফেরত যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় নাসিমার (ছদ্মনাম)। বিয়ের তিন/চার মাসের মাথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী সাইফুল (ছদ্মনাম)। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি ধরা পড়লো। এরপর সংক্রামক এই ভাইরাস নাসিমার শরীরেও ধরা পড়ে।

তবে তখন গর্ভবতী ছিলেন নাসিমা। তিনি ও তার স্বামী নবাগত সন্তানের ভবিষৎ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তখনই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিএমটিসিটি প্রোগ্রামের খবর পান। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সন্তান জন্ম দেন তিনি। খাওয়াচ্ছেন বুকের দুধও। সম্পূর্ণ সুস্থ তার সন্তানের বয়স এখন এক বছর।

শামীমার গল্পটা প্রায় একই। তার স্বামীও বিদেশ ফেরত। গর্ভবতী হওয়ার পর জানতে পারেন তিনি এইচআইভি পজেটিভে আক্রান্ত। পরে পিএমটিসিটির অধীনেই চিকিৎসা নিতে থাকেন তিনি। এরপর তিনিও সুস্থ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তার ছেলের বয়স এখন তিন বছর।

শুধু নাসিমা, শামীমাই নয়; এখন পর্যন্ত পিএমটিসিটি প্রোগ্রামের অধীনে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিলেট অঞ্চলের ৫৬ জন এইচআইভি পজেটিভ ভাইরাসে আক্রান্ত মা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে আরো কয়েকজন গর্ভবতী চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভাগ সিলেট। এ অঞ্চলে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্য ফেরত প্রবাসী এবং তাদের স্বজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পর্যন্ত ৯৫১ জন এইচআইভি পজেটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে বেঁচে আছেন ৫৫৭ জন। এ বছর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন।

এইডস আক্রান্ত মায়ের শিশুর শরীরে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ইউনিসেফের সহায়তায় ২০১৩ সালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিএমটিসিটি প্রকল্প চালু করা হয়। গত বছরে এই প্রকল্পের পাশাপাশি হাসপাতালে অ্যান্টি রেট্রো ভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু হয়।

পিএমটিসিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. মোতাহের হোসেন বলেন, সিলেট অঞ্চলে এইডস আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি। এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান সুস্থ রাখতে এই প্রকল্প চালু হয়। প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে পজেটিভ গর্ভবতী মহিলাদের বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষাসহ অন্যান্য সেবা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে গর্ভের সন্তান যাতে এইচআইভি আক্রান্ত না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হয়। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এখান থেকে ৫৬ জন মা সুস্থ শিশু জন্ম দিয়েছেন। কয়েকজন জন্মদানের অপেক্ষায়ও আছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও এআরটি সেন্টারের সদস্য সচিব ডা. আবু নাঈম মোহাম্মদ বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ার কারণে সিলেটে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত প্রবাসীরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আসছেন। কিন্তু তাদের অজ্ঞতার কারণে তাদের স্ত্রীরা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। ওসমানী হাসপাতালের এআরটি থেকে বিনামূল্যে এইডস আক্রান্তদের ওষুধ এবং অন্যান্য সেবা দেয়া হয়। এছাড়া তাদের কাউন্সিলিংও করা হয় বলে জানান তিনি।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা.  মো. ইউনুছুর রহমান বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের সেবা প্রদানে সিওমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেবা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর উদাহরণ হচ্ছে এইচআইভি পজেটিভ মায়েদের সুস্থ সন্তান প্রসব।

সিলেট বিভাগের এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীরা সারা বছর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ অন্যান্য সেবা নিয়ে থাকেন। গত বছরে বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালেও এ সেবা চালু করা হয়েছে।

প্রকাশ :ডিসেম্বর ২, ২০১৯ ২:৩৩ অপরাহ্ণ