২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:১০

আট গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বাদ

সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি আটটি গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। যোগ করা হয়েছে আউটসোর্সিং নীতিমালার অধীনে নতুন ১১টি খাতকে। মূলত ব্যয় কমানোর জন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার অর্থবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পরিপত্র অনুযায়ী ১৩ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত এই আট গ্রেডে নিয়োগ স্ব স্ব মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অধীনস্থ দপ্তর এককভাবে পরিচালনা করবে। শুধু তাই নয়, মন্ত্রণালয়/বিভাগ বা অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা বা প্রস্তাবও করা যাবে না।

অর্থ বিভাগ থেকে জারি পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় বেতন গ্রেড ১৩-২০ (আগের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি) পর্যন্ত পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগের জন্য পাবলিক/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। একই সাথে মন্ত্রণালয়/বিভাগ বা অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বরাদ্দ বা প্রস্তাব করা যাবে না। ’

এ অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালকে সম্পৃক্ত করা হয়। অনেক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমেও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাছাই কার্যক্রম করা হয়ে থাকে। দেখা যায়, একটি একটি পদের যাচাই-বাছাই করতে সরকারের কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য অনেক সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থা অর্থ বিভাগের কাছে অর্থ চেয়ে আবেদন করে। এই ব্যয় কমানোর জন্য এখন থেকে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় তাদের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজটি সম্পন্ন করবে। এতে করে সরকারের ব্যয় কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে এসব নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থা যদি সরকারি কর্মচারী নিয়োগদান প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শুধু তাই নয়, এতে স্বজনপ্রীতিসহ নানা ধরনের দুর্নীতিও হতে পারে।

উল্লেখ্য, আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী ১১টি খাতকে এই  সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেবাগুলো হচ্ছে- নিরাপত্তা ও পাহারা (কেপিআই ব্যতিত), পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বাগান পরিচর্যা, পরিবহন সেবা, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল ও কাঠের কাজ, কুকিং ও ডাইনিং সংক্রান্ত, হোস্টেল, মেসরুম, ক্লাব, স্পোর্টস এবং কমনরুম সংক্রান্ত, হাউজ কিপিং, কেয়ার টেকিং এবং হাসপাতাল সেবা সংক্রান্ত, লিফট রক্ষণাবেক্ষণ, পাম্প অপারেটিং, জেনারেটর অপারেটিং, মেশিন অপারেটিং ও প্রজেক্টর অপারেটিং সংক্রান্ত, এয়ার কন্ডিশন যন্ত্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ডাক বিতরণ সংক্রান্ত এবং স্যানিটারি ও প্লাম্বিং কাজ। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত অন্য যেকোন সেবা থেকে আউটসোর্সিং নেওয়া যাবে। মূলত সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য নতুন এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নীতিমালায় আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির বয়সমীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই বয়সসীমা হবে ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর।

প্রকাশ :অক্টোবর ২৮, ২০১৯ ১:৩০ অপরাহ্ণ