১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:৩৫

স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে ঋণ কার্যক্রম!

 নীলফামারী : নীলফামারীর জলঢাকায় স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার নামে একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে ঋণ কার্যক্রম চালুর অভিযোগ উঠেছে।তবে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এ সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কেও অবগত নয়। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ঋণ কার্যক্রম চালাতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন লাগে। এ সংস্থার তা নেই।

উপজেলা শহরের মাথাভাঙ্গা এলাকায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার কার্যক্রম শুরু করে। তারা কার্যক্রম শুরুর পর মার্চে জলঢাকায় বিভিন্ন গ্রামের ২১ জনের চোখের ছানি অপারেশন করে। এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবার কথা বলে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য বিশেষ করে নারীদের সদস্য বানাচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে,  যারা আমাদের সদস্য হবে তারা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন ছাড়ে চিকিৎসা সেবা পাবেন। আমাদের সদস্যের মধ্যে যারা ঢাকায় বাস করেন তারাও আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে পারবেন। সেখানে ১০ হাজার টাকা খরচ করলে আমরা ৮০ শতাংশ অর্থাৎ আট হাজার টাকা সহযোগিতা দেবো।

উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের সদস্য মমিনা বেগম (৪২) বলেন, ‘আমরা গ্রামের সহজ সরল মানুষ। স্যারেরা যা বলেন সেটাই বিশ্বাস করে সদস্য হয়েছি। এখন শুনিছি উপজেলাত বলে তাদের নাম নাই।এখন পরে কী হবে জানি না।’

একই উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের রুবিনা আকতার (৩৮) বলেন, ‘পাড়া মহল্লায় ও হাতের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য সদস্য হয়েছি। এই অফিস থেকে লোনও দিতে চাইছে। এই আশায় সমিতিতে সঞ্চয় রাখছি।  টাকাও পাবো, চিকিৎসাও পাবো। এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে।’

একই ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সেলিম, সেকেন্দার আলী ও আব্দুল হাকিম জানায়, এখানে ভর্তি ফি ও সঞ্চয় ছাড়াও তাদের কাছ থেকে প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। যারা টাকা দিতে পারবে না তাদেরকে নাকি ঋণ দেওয়া হবে না।

রংপুরে ২১ বিঘা জমির ওপর হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। জলঢাকায় ১০৫টি সমিতি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগস্ট পর্যন্ত ১৫০০ জনকে সদস্য করা হয়েছে সমিতির।বিভিন্ন গ্রামে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮২টি সমিতি গঠনের মধ্য দিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস (ইউএনও) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম, সেবা ও সচেতনতার ওপর ১৫টি এনজিও কাজ করছে। সেখানে আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার নামে কোনও প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ও জানে না এমন একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আদ্-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার জলঢাকা শাখা ব্যবস্থাপক অশোক চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের এটা আকিজ কোম্পানির সেবামূলক কাজ। কিছুটা আর্থিক লেনদেন আছে। সঞ্চয় জমা দিয়ে আমাদের সদস্য হতে হয়। আবার এটা থেকে লোনও নেয় তারা। সদস্যরা সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা করে সঞ্চয় দেয়। যারা স্বাস্থ্যসেবা পাবে না তারা বছরে ৬ শতাংশ হারে লাভ পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্যারের পরিকল্পনার লক্ষ্য রংপুরে যে হাসপাতালটা হবে সেখানে এই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কোনও মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। জলঢাকায় চোখে ছানি নিয়ে কেউ থাকবে না।’

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেডএ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার এখানে ল্যাম্ব শো প্রজেক্ট ও ব্র্যাক এ দু’টি এনজিও স্বাস্থ্যের ওপর কাজ করে। এর বাইরে কেউ কাজ করলে আমি অবগত নই।’

ইউএনও সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘ঋণ কার্যক্রম চালাতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন লাগে। আমার জানা মতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল আছে। তারা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। তাদের ঋণ কার্যক্রম থাকার কথা নয়।’

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ১২:২৪ অপরাহ্ণ