২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:০৪

বৈদেশিক কর্মসংস্থান : প্রতারণা-হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এখনই

দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ প্রবাসী। যাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আমাদের পাঠাচ্ছেন। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড রেমিট্যান্স ইউনিট বিভাগের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী বেশি রেমিট্যান্স আসা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে এ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশের জন্য এই অর্জন ধরে রাখা প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সম্প্রতি ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি হাইকমিশনে এক প্রবাসীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আর এই নির্যাতনের গোপনে ধারন করা একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এক ভুক্তোভোগী। পরিবার পরিজন ছেড়ে দেশের বাইরে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করা প্রবাসীর সঙ্গে এহেন আচরণ মোটেও কাম্য নয়।
শুধু এটাই নয়। দেশের বাইরে যেতে অহরহই নানা ধরণের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিদেশ গমনে ইচ্ছুকরা। অতি সম্প্রতি কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিট ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজ দেখিয়ে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতকারী প্রতারক চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তারা বিদেশে পাঠানোর নাম করে ভুক্তভোগী একেকজনের কাছে দশ লক্ষধিক টাকা নিয়েছে। এরকম ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে অহরহই ঘটছে। দুএকটা ঘটনায় অপরাধীরা ধরা পড়লেও বেশিরভাগক্ষেত্রে প্রতারকররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) দুবছর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিদেশে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশই প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হন। এদের মধ্যে ১৯ শতাংশ মানুষ টাকা দেওয়ার পরও বিদেশে যেতে পারেন না এবং ৩২ শতাংশ বিদেশে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহান। বিদেশে যেতে আগ্রহী মানুষের প্রতারিত হওয়ার ঘটনা ওই সময়ের চেয়ে এখন কমেছে, সে কথা প্রমাণ করা যায় না। এবিষয়ে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও চোখে পড়েনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতারিত হয়ে শ্রমিকদের দেশে ফেরার ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রতারণা কমেনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হয় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে। তাঁদের বেশির ভাগকে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়। অনেকেই ফিরে আসছেন লাশ হয়ে। যেগুলোর অধিকাংশই আত্মহত্যার ঘটনা বলে চালানো হয়। বাস্তবে কী ঘটেছিল, তা জানার কোনো পথ থাকে না।
দেশে আইনকানুন এবং সেগুলো প্রয়োগে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকলেও প্রতারকচক্র সব জায়গায় ওঁৎ পেতে রয়েছে। প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া এসব চক্রের মূলহোতাদের সবার আগে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে সরকারকে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। অবৈধ পথে এবং অবৈধ সংস্থার মাধ্যমে বিদেশ গমন নিরুৎসাহীত করতে অবৈধ এজেন্সিগুলোকে চিহ্নিত করে একটি তালিকা বানাতে হবে। নইলে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই খাত অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ৫:২৫ অপরাহ্ণ