২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৫৯

সেন্ট মার্টিনে আটকে পড়া ১১৯৩ পর্যটক ফিরেছেন

অনলাইন

বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী উত্তাল থাকা এবং সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেতের কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে দুদিন ধরে আটকা ছিলেন ১ হাজার ১৯৩ জন পর্যটক। আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা চারটি জাহাজে করে টেকনাফে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পর্যটক জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ, বে-ক্রুজ, এমভি আটলান্টিক ক্রুজ ও এলসিটি কাজলকে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরত আনতে সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে জাহাজ চারটি পর্যটকদের নিয়ে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে ফিরে আসে।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বলবৎ রয়েছে। এ কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বিপজ্জনক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক (পরিবহন) মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নির্দেশ অম্যান্য করে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরত আনতে যাওয়ার সময় বে-ক্রুজ ২০০, এলসিটি কাজল ১৪৫, কেয়ারি সিন্দাবাদ ৮০ ও এমভি আটলান্টিক ক্রুজ ৬৫ জন পর্যটক নিয়ে যায়। জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।

সেন্ট মার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন, গত মঙ্গলবার টেকনাফ থেকে ছয়টি জাহাজে করে ৩ হাজার ৮৭৩ জন পর্যটক সেন্ট মার্টিন এসেছিলেন। এর মধ্যে ওই দিন বিকেলে ১ হাজার ৮৮০ জন সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফে ফিরে যান। ওই সময় অবশিষ্ট ২ হাজার পর্যটক রাত যাপন করেন দ্বীপে। সেখান থেকে বুধবার সকালে কয়েকটি স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলারে করে প্রায় ৮০০ জন টেকনাফ ফিরে আসেন। অবশিষ্ট ১ হাজার ১৯৩ জন জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দ্বীপে আটকা পড়েন। পরে টেকনাফ থেকে চারটি জাহাজ এসে আটকে পড়া পর্যটকদের নিয়ে গেছে।

আটকে পড়ার পর ফেরত আসা ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, সংকেত থাকায় সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকলেও বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তবে প্রচণ্ড রোদ ছিল। সেন্ট মার্টিন থেকে ছেড়ে আসার কিছুক্ষণ পর মাঝসাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সামান্য ভোগান্তির শিকার হলেও ভালোভাবে ফিরে আসতে পেরেছি।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম ও এলসিটি কাজলের ব্যবস্থাপক মনির আহমদ বলেন, বেড়াতে গিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সেন্ট মার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরত আনা হয়েছে। পর্যটকেরা এখন নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়া ঢাকার সরকারি-বেসরকারি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সব পর্যটকদের ফেরত আনতে চারটি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে জাহাজগুলো সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সময় যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ :মার্চ ১, ২০১৯ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ