নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ দিন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকার পর এবার উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ। গতকাল মধ্যরাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিপিডি) এক বৈঠকে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের সব সূচক অর্জন করেছে বলে জানানো হয়। পরে এই ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক কমিটি গতকাল রাতে নিউইয়র্কে বৈঠকে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের সকল সূচক প্রথমবারের মতো অর্জন করেছে। আজকে তারা আমাদের জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে এটা নিশ্চিত করে একটা চিঠি হস্তান্তর করবে। নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছর পর পর দুইবার এটা অর্জন করলেই চূড়ান্তভাবে একটা দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আমাদেরকে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং ২০২১ সালে আবারও তা নিশ্চিত করতে হবে একই সূচকগুলো অর্জনের মধ্যে দিয়ে।
তিনি আরো লিখেছেন, এই রকম একটি ঐতিহাসিক সময়ে পরম শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। সকল শহীদদের স্মরণ করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। জানা গেছে, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এ তিনটির যেকোনো দুটি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে। তিনটি সূচকেই পর্যাপ্ত মানদণ্ড অর্জন করে এ স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ ডলার। সেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৭১। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি। বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম। সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
দৈনিকদেশজনতা/ আই সি
Daily Deshjanata দেশ ও জনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

