৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৫৩

মিয়ানমারে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবি জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে দেশটি যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান প্রিন্স জেইদ বিন রায়দ জিন্দ আল-হুসাইন। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যেখানে গণহত্যা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে সেখানে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করার অনুমতি দেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান জেইদ। তিনি বলেন, যদি মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করতে চায়, তাহলে রাখাইন রাজ্যে আমাদের প্রবেশের আমন্ত্রণ জানাক।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার বলেন, আমরা বলছি যে, সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সেখানে গণহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে শুধু আদালতই এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুন বলেন, যদি গণহত্যা হয় তবে তাদের সবাইকে বের করে দেয়া হতো।
থাউং টুন আরও বলেন, আমরা প্রায়ই অভিযোগে শুনি যে মিয়ানমারে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমি আগে বলেছি এবং আবারও বলছি—এটা সরকারের কোনো নীতি নয় এবং এ ব্যাপারে আপনাকে আমরা নিশ্চয়তা দিতে চাই। যদিও অভিযোগ রয়েছে, তবে আমরা স্পষ্ট প্রমাণ দেখতে চাই।

এ বিষয়ে রো না সান লউইন নামের একজন রোহিঙ্গা সদস্য আল জাজিরাকে বলেন, মিয়ানমারের নেতাদের আইসিসিতে বিচার করা এবং সেখানে চলমান গণহত্যা বন্ধের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওই রোহিঙ্গা আরও বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ন্যায়বিচার খুঁজছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবতা ও গণহত্যার অভিযোগ করা হচ্ছে। শুধু রোহিঙ্গা নয়, কাচিন, কারেন, শান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং হোলিং এবং স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে হেগের আদালতে বিচারের জন্য দাড় করানোর দাবি করেন।

নিকদেশজনতা/ এফ আর

প্রকাশ :মার্চ ১০, ২০১৮ ২:১৪ অপরাহ্ণ