৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০২

ভ্যাট আইন সংশোধনের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি

নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন সংশোধনসহ আগামী অর্থবছরের বাজেটে কিছু পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল রোববার এনবিআর ও এফবিসিসিআই আয়োজিত যৌথ পরামর্শক কমিটির সভায় তিনি বলেন, সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করলে দেশীয় শিল্প মার খাবে- এমন উদ্বেগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। আমি নিজেও বিষয়টি অনুভব করছি। কারণ, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা দেওয়া। সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে কোন কোন শিল্প বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ জন্য নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন, আমাদের দেশে করপোরেট করহার তুলনামূলক বেশি। এটি কমানোর বিষয় ভেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সীমা বাড়ানোর চাপ আছে। এটা বাড়ানো হবে এবং যেটা করা হবে একবারে ১৫ বছরের জন্য স্থির থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে এই নজির আছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ‘বিড়ি এ দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া উচিত’ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিড়ি, সিগারেটে কর আরও বাড়ানো হবে। এটা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা পিআরআই কাজ করছে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব প্রতিনিধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবই যদি ফ্রি করে দিই, তা হলে সরকার চলবে কী করে? তবে স্পেকট্রামের ওপর আরোপিত ভ্যাট তুলে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হয়। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এই হার খুবই বেশি। এ ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সময় অগ্রিম কর আদায়ের নিয়ম অন্য দেশে নেই। জবাবে মুহিত বলেন, ‘আমি এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। আগামী বাজেটে এখানে কিছু একটা করব। তবে কী করব এখনই তা বলতে পারছি না।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট হবে উচ্চাভিলাষী। তার কারণ রয়েছে। ১৪ লাখ টিআইএন থেকে এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৮ লাখ। জনগণ আগের চেয়ে বেশি কর দেন এবং কর প্রদানে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমরা আশা করছি, করনেট আরও বাড়বে। ফলে বাড়বে রাজস্ব আদায়। যে কারণে বড় বাজেট করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

যৌথ পরামর্শ সভায় লিখিত প্রস্তাবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করে বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশে বর্তমান শুল্ক স্তর ১, ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ শতাংশ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, শস্যবীজসহ ট্যারিফ সিডিউলের ৩১২টি পণ্যের ওপর শূন্য শতাংশ শুল্ক অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া স্টিল, লৌহজাতীয় পণ্য, চিনি, সিমেন্ট, ক্লিঙ্কারসহ ৪৭টি পণ্যের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শুল্ক (স্পেসিফিক ডিউটি) বহাল রাখতে বলেছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠন নতুন শুল্ক আইন আগামী বাজেট অধিবেশনে পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে যেসব পণ্য ও সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আছে, তা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

আয়কর খাতে ব্যক্তি করমুক্ত সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং সব কোম্পানির করপোরেট করহার ২৫ ও ৩৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সারচার্জ দুই কোটি ২৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।

রফতানি আয় বাড়াতে উৎসে কর দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে ৩০ লাখের পরিবর্তে ৩৬ লাখ টাকা বার্ষিক লেনদেন পর্যন্ত ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত উৎপাদন পর্যায়ে তিন শতাংশ হারে টার্নওভার কর আরোপের প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি সেবা খাতে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ‘হ্রাসকৃত’ হারে ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকাশ :মে ২, ২০১৭ ২:২৫ অপরাহ্ণ