আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লন্ডনের সেভেন সিস্টার্স রোডের ফিন্সবুরি পার্ক মসজিদের কাছে গত রোববার মুসল্লিদের ওপর ভ্যান চালিয়ে দেওয়া ব্যক্তিটিকে গণপিটুনি থেকে বাঁচিয়েছেন মোহাম্মদ মাহমুদ নামে এক ইমাম। পরে হামলাকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় ‘হিরো অফ দ্য ডে’ খেতাব পেয়েছেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনায় মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, উত্তর লন্ডনে মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউজের বাইরে ভ্যান হামলার পরক্ষণেই ক্ষুব্ধ মানুষজন হামলাকারীকে মারতে শুরু করে। আর তখনই তার জীবন বাঁচাতে এগিয়ে যান তিনি। উত্তেজিত জনতাকে তিনি বার বার বলতে থাকেন, তাকে মেরো না, মেরো না, পুলিশের হাতে তুলে দাও।
ভ্যানচালক যখন চিৎকার করে বলছিল, আমি সব মুসলমানকে মেরে ফেলতে চাই, ঠিক তখনই তাকে পাল্টা আঘাত না করে মানুষজনকে বার বার শান্ত থাকতে বলেন ইমাম মাহমুদ।
উত্তেজিত লোকজনের বাধা ঠেলে তিনি এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ভ্যানচালক এ সময় নিজের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চারপাশের মানুষজনকে বলে, ‘আমাকে মারো, আমাকে মারো’। কিন্তু তারপরও লোকজনকে শান্ত থাকতে বলে বার বার তাকে পুলিশে সোপর্দ করার অনুরোধ জানাতে থাকেন মাহমুদ। এক পর্যায়ে আরো কয়েকজন এগিয়ে এসে তার সঙ্গে যোগ দিয়ে হামলাকারীকে সুরক্ষিত রাখে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে মাহমুদ বলেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আমরা তাকে ঘিরে রাখতে সক্ষম হয়েছি এবং তার কোন ক্ষতি হতে দেইনি। চতুর্দিক থেকে তার ওপর ক্ষুব্ধ মানুষজনের ঝাঁপিয়ে পড়া ঠেকাতে পেরেছি।
হামলার পর পরিস্থিতি বি-শৃঙ্খল হয়ে উঠতে থাকার সময়ই একটি পুলিশের গাড়ি কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় মাহমুদসহ আরো কয়েকজন কোনভাবে গাড়িটিকে থামিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন এবং হামলাকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
লন্ডন পুলিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জনগণের এই সংযমের প্রশংসা করেছে। এদিকে, জনগণকে শান্ত রাখার চেষ্টার জন্য মাহমুদকে ‘হিরো অব দ্য ডে’ খেতাব দিয়েছে মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউজ।
আর হামলার পরও জনগণের শান্ত থাকার এ দৃষ্টান্ত যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সহিংসতার বহির্মুখী চিত্রটির ঠিক বিপরীত- সেকথাটিই ক্যামেরার সামনে এক বক্তব্যে তুলে ধরেছেন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, আমাদের এ সম্প্রদায় সহিংসতা নয়, শান্তির সম্প্রদায় হিসাবেই পরিচিত। মসজিদ অনাবিল শান্তির জায়গা। আমরা যে কোন উত্তেজনা প্রশমনে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে যাব।
দৈনিক দেশজনতা/এন এইচ
Daily Deshjanata দেশ ও জনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

